আইনগত Gender (জেন্ডার / লিঙ্গ) পরিবর্তন করবার প্রণালী

0

প্রত্যেকের পক্ষে সবসময় দিল্লি গিয়ে গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আমরা নিচে আলোচনা করবো কিভাবে গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সমস্ত পরিচয়পত্রে লিঙ্গ পরিবর্তন করা সম্ভব।

প্রথম ধাপ – এফিডেভিট / হলফনামা । আনুমানিক খরচ – ₹৩০০ – ৩৫০

যেকোনো দলিল লেখকের থেকে লিঙ্গ পরিবর্তন করার জন্য একটি হলফনামার বন্দোবস্ত করা যেতে পারে। এর জন্যে সাধারণত ৩০০ টাকা খরচ পড়ে। তোমার সুবিধার জন্য এখানে একটি হলফনামা উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ – সংবাদপত্রে / খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন । আনুমানিক খরচ – ₹১৫৫০

যেকোনো স্থানীয় খবরের কাগজে তোমার হলফনামার কপি / অনুলিপি জমা দাও। www.bookmyad.com -এর সাহায্যে অনলাইনেও এই কাজ করা যায়। যদি তুমি এটা একটু লুকিয়ে ছাপিয়ে করতে চাও তাহলে এমন একটা কাগজে বিজ্ঞাপন দাও যেটার খুব একটা প্রচলন নেই। এইভাবে তোমার খরচাও কিছুটা কম হবে। এই ধরণের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্যে সাধারণত ৩০০ – ৫০০ টাকা খরচ পড়বে। উদাহরণ হিসেবে আমি এখানে একটা টেম্পলেট দিয়েছি যাতে তুমি বুঝতে পারো বিজ্ঞাপনটা ঠিক কেমন হওয়া উচিৎ।

তৃতীয় ধাপ – ভারতীয় ডাক বিভাগের থেকে ঠিকানার প্রমাণপত্র (ঐচ্ছিক) । খরচ – ₹২৭০

India post proof of address card
India post proof of address card

আমরা যত ধরনের পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে পারি তার মধ্যে এটার জন্যে আবেদন করা সবচেয়ে সহজ এবং সরল। ভারতীয় ডাক বিভাগ হলো একটি কেন্দ্রীয় সরকারী বিভাগ। এই ধরণের একটা প্রমাণপত্র দেশের প্রায় সমস্ত সরকারী বিভাগে ঠিকানা ও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এই ধরণের কার্ডের মেয়াদ ৩ বছর। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ১৫০ টাকা দিয়ে এটার পুনর্নবীকরণ করা যায়।

দরখাস্তের প্রণালী –

১. আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে ভর্তি করো। তোমার নতুন নাম ও লিঙ্গের উল্লেখ করতে ভুলোনা।
২. ছবি – একাজ করতে ২টো স্ট্যাম্প সাইজের ছবি প্রয়োজন।
৩. ঠিকানার প্রমাণপত্র যেটা তোমাকে নতুন নামে উদ্দেশ্য করে লেখা ( পোস্টমাস্টার অনুসারে এটার দরকার হতে পারে আবার নাও পারে) – এমন কোনো ভাড়ার দলিল বা এই ধরণের যেকোনো প্রমাণপত্র যাতে লেখা ঠিকানার সাথে এই দরখাস্তের আবেদন ফর্মে লেখা ঠিকানার পুরো মিল থাকে।
৪. ব্যক্তিবিশেষ সনাক্তকরণ চিণ্হ ‌( বাধ্যতামূলক) – তোমার শরীরের যেকোনো আঁচিল, কাটাছেঁড়ার চিণ্হ, জন্মদাগ ইত্যাদি ধরণের অনন্য সনাক্তকরণ চিণ্হের নজর করো এবং এই আবেদন পত্রে সেটার উল্লেখ করো।

এবার এই সমস্ত কাগজপত্র কাছাকাছি কোনো বড় পোস্টঅফিসে / ডাকঘরে জমা দাও ভারতীয় ডাক বিভাগের থেকে ঠিকানার প্রমাণপত্র পাওয়ার জন্য। যেহেতু বেশিরভাগ ডাককর্মীরই এই ব্যাপারে খুব একটা অভিজ্ঞতা নেই তাই তোমাকে তাদেরকে কিছু একটা বলতে হবে। উপরন্তু কিছু কিছু অত্যধিক কৌতুহলী পোস্ট মাস্টারেরা আরো কিছু অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে। যাইহোক, তোমার দরখাস্ত জমা দিয়ে দাও; খেয়াল রাখো যাতে ডাককর্মীরা তাদের সিস্টেমে তোমার দেওয়া তথ্যগুলো ঠিকমতো পূরণ করে। একটা রসিদ নিতে ভুলোনা যেন।

ভারতীয় ডাক বিভাগের থেকে ঠিকানার প্রমাণপত্র জোগাড় করবার খরচ – সাধারণভাবে ₹২৭০+, আপৎকালীন (তৎকাল) বিশেষে ₹৬০০। এই কাজ পুরো শেষ হতে সাধারণত ৩ মাস এবং আপৎকালীন বিশেষে ১৫-২০ দিন লাগে। এই ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে যে আপৎকালীন বিশেষে একাজ শুধুমাত্র মুখ্য পোস্টঅফিসগুলোতেই হতে পারে। ছোট ডাকঘরে এর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

এই কাজ চলাকালীন সময়ে একজন ডাককর্মী তোমার বাড়িতে আসবে ঠিকানা যাচাই করবার জন্য।

চতুর্থ ধাপ – পরিচয়ের প্রমাণপত্র

একজন A অথবা B বিভাগীয় গ্যাজেট অফিসারের খোঁজ নাও আর তাকে তোমার ব্যাপারে জানাও। এর দরকার এজন্য যাতে সে তার লেটারহেডে তোমাকে একটা এ্যাটেস্ট করা পরিচয়পত্র দেয়। আগের ধাপে উল্লেখ করা ভারতীয় ডাক বিভাগের তরফ থেকে ইস্যু করা ঠিকানার প্রমাণপত্র তোমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে। ঐ অফিসারের পরিচয়পত্রের জেরক্স কপিও একটা লাগবে একাজে। আমি এখানে একটা টেম্পলেট দিয়েছি এটা বোঝানোর জন্য যে কোন ধরনের সার্টিফিকেট তাদের অফিসিয়াল লেটারহেডে ছাপানোর দরকার।

নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যে কারা এই ধরণের গ্যাজেট অফিসার হিসেবে ভুমিকা নিতে পারে –

গ্রুপ A –

  • পুলিশকর্মী ( ইন্সপেক্টর বা তার ওপরতলার কেউ)
  • সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ বা তার ওপরতলার কেউ
  • রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভাইস চ্যান্সেলর, সহকারী রেজিস্ট্রার, অধ্যক্ষ, শিক্ষক ইত্যাদি
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডার
  • অতিরিক্ত জেলা সিভিল সার্জন
  • এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার
  • জেলা স্বাস্থ্য কর্মী বা তার ওপরতলার কেউ
  • কর্নেল বা তার ওপরতলার কেউ
  • পেটেন্ট পরীক্ষক
  • সহকারী কমিশনারের রাজ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা
  • রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ A কর্মীরা (আই.এ.এস, আই.ই.এস, আই.এফ.এস, এস.ডি.পি.ও, ডি.টি.বি, সি.পি., ডি.জি.পি., জে.সি.পি., আই.জি.পি., এ.ডি.এল.সি.পি., ডি.আই.জি., ডি.সি.পি., এস.এস.পি., ডি.সি.পি., এস.পি., এ.এস.পি., এ.সি.পি., ডি.এস.পি., কর্নেল প্রমুখ)
  • সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী

গ্রুপ B –

  • বিভাগীয় অফিসার
  • বি.ডি.ও.
  • এস.ডি.ও.
  • তহশিলদার
  • আয়কর বিভাগের অফিসার
  • সরকারী হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তার
  • অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার
  • সরকারী কলেজের লেকচারার
  • সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক
  • লেফটেন্যান্ট, মেজর জেনারেল
  • ম্যাজিস্ট্রেট
  • রাজ্য সরকারী ড্রাগ ইন্সপেক্টর
  • সিনিয়র এবং (এ.এ.ও.), (ক্যাগ) অফিসার

পঞ্চম ধাপ – আধার কার্ডের আবেদন ( খরচ – ₹৩০)

একটা বেসরকারি ব্যাংকে যাও যেটা একটা স্থায়ী আধার এনরোলমেন্ট সেন্টার। আমি এক্সিস ব্যাংকের বিবেক বিহার ব্রাঞ্চে গিয়েছিলাম। এই ধাপে যেই যেই কাগজপত্র লাগবে সেগুলো হলো —

  • পরিচয়ের প্রমাণপত্র (গ্যাজেট অফিসারের থেকে প্রাপ্ত পরিচয়ের সার্টিফিকেট)
  • জন্ম তারিখের প্রমাণ
  • এফিডেভিটের কপি
  • সংবাদপত্রের কপি

ষষ্ঠ ধাপ – প্যান কার্ডের আবেদন ( খরচ – ₹১০০ )

যদি তোমার ইতিমধ্যেই পুরোনো নামে প্যান কার্ড থেকে থাকে তাহলে – পরিচয়ের প্রমাণ + ঠিকানার প্রমাণ + জন্ম তারিখের প্রমাণ + নতুন আধার কার্ড + পরিবর্তনের স্বপক্ষে কাগজপত্র: গ্যাজেট অফিসারের থেকে প্রাপ্ত পরিচয়ের প্রামাণ্য সার্টিফিকেট (সঙ্গে ওই অফিসারের পরিচয়ের প্রমাণ) + এফিডেভিটের কপি + সংবাদপত্রের কপি

যদি তোমার পুরোনো নামে প্যান কার্ড না থেকে থাকে তাহলে নতুন আধার কার্ডের সাহায্যে প্যান কার্ডের জন্যে আবেদন করো

সপ্তম ধাপ – পাসপোর্টের আবেদন ( খরচ – ₹১৫০০ – ২০০০ )

এই কাজে যে যে কাগজপত্র তোমার লাগবে সেগুলো হচ্ছে –
১. আধার কার্ড

২. প্যান কার্ড

৩. দশম শ্রেণীর মার্কশিট/জন্মের সার্টিফিকেট/গতবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ

৪. ২টো আসল সংবাদপত্র
(তুমি একাজ অনলাইনে কিম্বা অফলাইনেও করতে পারো। আমি আমার বিজ্ঞাপনটা www.bookmyad.com ওয়েবসাইট থেকে “দ্য হিন্দু” কাগজের পাবলিক নোটিস বিভাগে দিয়েছিলাম। আমি বিজ্ঞাপন প্রকাশের দিনের কাগজের ৭-৮ কপি কিনে রাখতে বলব কেননা ঐদিনের কাগজটা আবার কেনবার জন্য আর পাওয়া যাবে না অথচ অনেক সময়েই সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মীরা অরিজিনাল/আসল কপি চাইবে)
খরচ – ₹১৫৫০ (এটা নির্ভর করে কোন কাগজে আর কোন বুকিং এজেন্সির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনটা দেওয়া হচ্ছে তার ওপরে)

৫. জেন্ডার ডিসফোরিয়া সার্টিফিকেট (Gender Dysphoria Certificate)

৬. পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থেকে থাকে)
পাসপোর্টের জেন্ডার মার্কার পরিবর্তন করতে যেকোনো পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের কার্যালয়ে যাওয়া যেতে পারে।

আমরা কবির -কে আমাদের হয়ে এই নিবন্ধটি লেখার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

বাংলায় অনুবাদ করেছে লিনিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here